৬০ হাজার ডলারের নিচে নামছে বিটকয়েনের দাম?

বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে গতকাল বড় ধরনের পতন দেখা যায়।

বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে গতকাল বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এর প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দাম ১৬ মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। লেনদেনের একপর্যায়ে গতকাল ৬০ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নামতে থাকে বিটকয়েনের দাম। খবর রয়টার্স।

বিটকয়েনের দাম গতকাল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৬৪ হাজার ১৫৩ ডলারে থিতু হওয়ার আগে বড় ধরনের ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। একপর্যায়ে এর দাম ৬০ হাজার ৮ ডলারে নেমে আসে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটিই বিটকয়েনের সর্বনিম্ন দাম। উল্লেখ্য, ওই সময়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পথে ছিলেন এবং তিনি ক্রিপ্টো খাতের প্রতি নিজের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

মেলবোর্নভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণাপ্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘২০২৫ সালের অক্টোবর থেকেই বিটকয়েনের দাম নিম্নমুখী। প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, এটি কি কোনো বড় সংকটের আগাম সংকেত, নাকি নিছক কাকতালীয় ঘটনা। বাজারে বিনিয়োগের যে বড় অবস্থানগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এখন খুব দ্রুত গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

বিটকয়েনের পাশাপাশি দরপতন হয়েছে দ্বিতীয় শীর্ষ ডিজিটাল কারেন্সি ইথারেরও। ইথারের দাম গতকাল কমে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে নেমে আসে, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ক্রিপ্টো তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনগ্যাকোর তথ্যমতে, গত অক্টোবরে ক্রিপ্টো বাজারের মোট মূলধন ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। সেখান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই বাজার থেকে উধাও হয়েছে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি।

হংকং ওয়েবথ্রি অ্যাসোসিয়েশনের কো-চেয়ারম্যান জশুয়া চু মনে করেন, বিটকয়েনের দাম ৬০ হাজার ডলারের দিকে নামার অর্থ এই নয় যে ক্রিপ্টো খাত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং অনেক তহবিল বিটকয়েনকে কোনো ঝুঁকিহীন সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছিল। এখন বাজারের চরম অস্থিরতা ও সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাবে তারা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।

আরও